অথচ জন্মান্ধ-শোক টেনে টেনে নদী হল তিমিরবিদারী,
পথের যাচনা থেকে অকুলে মিলিয়ে গেল ত্রস্ত নয়নার
দেহছবি ঘুঙ্ঘট বুকের কাঁচুলি৷
তোমাকে আমার কাছে নিয়ে এল
আদ্যিকালের এক হিজড়া নবীন
সেই থেকে পরিচয়...
সেই থেকে প্রেম এল...
সেই থেকে লেখা হলো বিরহের শাহনামা পাথর ললাটে৷
ডাকি নি শয্যায় তবু আত্মরতি কুরে কুরে খায় চন্দ্রসুখ
আমাদেরও পরাজয় হবে
ধ্বংসশীল পৃথিবীর অবিন্যস্ত কড়িকাঠে
গলায় ঝুলিয়ে দড়ি খুঁটে খাব মৃত সব বাদুড়ের ছানা,
শেষ বার দেখে নেব অমরাবতীর সেই লাল নীল যাদুর শলাকা
যা থেকে জ্বলে নি কভু নিধর্ুম আগুনের শিখা৷
রণরক্ত দেখে দেখে অনেক হাঁটা তো হল
ইরাক সিরিয়া আর লেবানন জুড়ে,
তারও আগে সলতেটা উসকিয়ে দিলে দেখা যাবে
কার্পেটে জড়িয়ে দেহ যে এসেছে রাজার ভাণ্ডারে,
প্রগৈতিহাসিক রাতে নবনীতা মিশরকুমারী
জ্বলজ্বলে স্তন মেলে শুয়ে থাকে মরুর শিয়রে৷
নেই কোন প্রতিদান আত্মহননের,
খুব বেশি ঋণী থাকা, তাও-তো কাজের কথা নয়,
কি করে ফেরালে বল, বাসনার তী্ন নখ স্ফুরিত অধর
ছোবল লুকিয়ে রেখে ঘুমালে অনন্ত রাত
খুলে রেখে পুষ্প-দুয়ার৷
তেজীয়ান মর্কট সাফল্য গাথা লেখে মর্ত-মানুষের,
তারপর বল্মীক ছেয়ে দেয় উচ্চ তার মাথা,
এ ভাবেই পরাজয় একে একে এসে জমা হয়
আত্মবাদী কশেরুকা ঘিরে,
করোটি কংকালে মেশে ছায়াপথ নীহারিকা
পুঞ্জ পুঞ্জ অরুন্ধতী একবার চোখ মেলে
একবার কাঁদে৷