পঞ্চম বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যার (জানুয়ারী-মার্চ ২০০৭) সম্পাদকীয়টির শুরু হয়েছে এক ব্যক্তির আমন্ত্রণপত্র পেয়ে বিরক্ত হওয়ার প্রসঙ্গ দিয়ে৷ 'সমাজ-রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্রে'র কোন এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে আমন্ত্রণপত্র পেয়ে জনৈক ভদ্রলোক ুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন৷ নতুন দিগন্তের উদ্বোধন উপল েযে অনুষ্ঠান হয়েছিল, তার উপস্থিতির তালিকা থেকে ভদ্রলোকের নাম ঠিকানা পাওয়া গিয়েছে এবং প্রথা অনুযায়ী আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে৷ প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমিও উপস্থিত ছিলাম, কিন্তু পরবতর্ী কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হই নি৷ ভদ্রলোকের আচরণ অবশ্যই অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক৷ এ ধরনের আমন্ত্রণপত্র পেলে তো সবাই আনন্দিত হয়, অসন্তুষ্ট হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না৷ উল্লেখ করা হয়েছে যে, এরূপ সংগঠনের ডাকে সাড়া দিলে বিষয়টি প্রকাশ পেলে তাঁর ভীষণ তি হতো; কারণ জোট সরকার এসমস্ত বিষয় সব সময় ল্য করত৷ এরূপ ভাবনা কি হাস্যকর নয়? উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভদ্রলোক নিজেকে একজন তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিক অর্থাত্ নগণ্য ব্যক্তি বলে মনে করেন৷ যদি তাই হয়ে থাকে, তবে ভয়ের কারণ কি হতে পারে? কোনো সরকারের প েকি অতিসাধারণ লোকের ব্যক্তিগত চিঠির ব্যাপারে নজরদারী করা সম্ভব?
পরবতর্ী অনুচ্ছেদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা হয়েছে৷ ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত হয়ে পরবতর্ীতে নতুন এক তত্ত্বাবধায়ক সরকার এসেছে৷ পরবতর্ী প্রোপট ভিন্ন৷ সম্পাদকীয়টির শেষ দিকে বিচ্ছিন্নতা বর্জন করে ঐক্য অর্জন করার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু তার উপায় বা দিকদর্শন বাতলিয়ে দেয়া হয় নি৷ সমতল জায়গা না হলে যেমন এগিয়ে চলা সম্ভব নয়, সমতা ব্যতীত তেমনি ল্য এক হয় না, আর ল্য এক না হলে ঐক্য টিকে থাকে না৷
ওমর খৈয়াম পর্দার আড়ালের কথা বলেছেন৷ বলেছেন যে, পর্দার আড়ালে কি আছে, তা আমাদের অজানা৷ জীবনাবসানের পরবতর্ী ঘটনাকে তিনি পর্দার আড়াল বলে অভিহিত করেছেন৷ কিন্তু আমাদের এই বাস্তব জীবনে, ব্যক্তিগত, জাতিগত ও আন্তর্জাতিক েেত্র সুদূর তো বটেই, অদূর ভবিষ্যতের বিষয়টিও পর্দার আড়ালেই আছে৷ আড়ালটি ঘুচে গেলে আগামী ছয়মাস কিংবা একবছর পরে যে-দৃশ্য দেখা যাবে, তা হয়তো হবে অভাবনীয়৷